মুখের ক্যান্সার

বৃহত্তর রংপুরে পান-সুপারি, জর্দা এবং মুখের ক্যান্সারের ভয়াবহ ও অজানা যোগসূত্র

Prof. Dr. Musa Siddik·৭ মার্চ, ২০২৬·

বৃহত্তর রংপুরে পান-সুপারি, জর্দা এবং মুখের ক্যান্সারের ভয়াবহ ও অজানা যোগসূত্র

H2: বৃহত্তর রংপুরে পান-সুপারি, জর্দা এবং মুখের ক্যান্সারের ভয়াবহ ও অজানা যোগসূত্র

আমাদের রংপুর অঞ্চলের ইতিহাস ও সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী এবং ঐতিহ্যবাহী। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, এই অঞ্চলটি ব্যাপক হারে তামাক, জর্দা এবং পান-সুপারি উৎপাদনের পাশাপাশি এর অতিরিক্ত ব্যবহারের জন্যও দেশজুড়ে পরিচিত।

রংপুরের একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাক্সিলোফেসিয়াল ক্যান্সার সার্জন হিসেবে প্রতিদিন আমি এই বদভ্যাসগুলোর ভয়াবহ ও মর্মান্তিক পরিণতি স্বচক্ষে দেখি।

এক উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান: মুখের ঘা ও ক্যান্সারের ৭০% কারণ

আমার দীর্ঘ ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা বলে, মুখে এ ধরনের ভয়াবহ যন্ত্রণা নিয়ে আসা রোগীদের ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষের অতীতে দীর্ঘদিন ধরে পান, সুপারি, কড়া জর্দা, গুল বা যেকোনো ধরণের ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনের পরিষ্কার ইতিহাস রয়েছে।

"স্যার, আমি তো বহু বছর আগেই জর্দা ছেড়ে দিয়েছি": ক্যান্সারের লুকিয়ে থাকা ঝুঁকি

ঠিক গতকালই আমি সেন্টারে একজন রোগীকে পরীক্ষা করছিলাম। তাঁর মুখের ভেতরের একটি ঘা দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল এটি সন্দেহাতীতভাবে মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক রূপ। আমি যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি কি পান, জর্দা বা গুল খান?" তিনি সাথে সাথে বললেন, "না স্যার, আমি ওসব ছুঁয়েও দেখি না, বহু বছর আগেই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি।" কিন্তু একটু খুঁটিয়ে বিস্তারিত ইতিহাস জানতে চাইলে বেরিয়ে এলো চরম সত্য।

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণই জীবন বাঁচাতে পারে

আপনারও যদি অতীতে নিয়মিত পান, সুপারি, কড়া জর্দা বা গুল ব্যবহারের অভ্যাস থেকে থাকে — এমনকি আপনি যদি ১০ বছর আগে তা সম্পূর্ণ ছেড়েও দিয়ে থাকেন — তবুও আপনি মুখের ক্যান্সারের উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় আছেন।

আপনার নিজের সুরক্ষায় যে লক্ষণগুলো কখনোই অবহেলা করবেন না:

  • মুখের ভেতরে এমন একটি ঘায়ের অস্তিত্ব যা টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে শুকায় না
  • মাড়ি, জিহ্বা বা মুখের ভেতরের নরম ত্বকে হঠাৎ করে সাদা বা গাঢ় লাল রঙের ছোপ ছোপ জন্ম নেওয়া
  • কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ মুখ থেকে রক্ত বের হওয়া বা মুখের নির্দিষ্ট কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া
  • প্রতিদিনের খাবার চিবানো, গিলতে বা চোয়াল নাড়াচাড়া করতেও তীব্র ব্যথা অনুভব করা

শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে নিশ্চিতভাবে জীবন বাঁচানো যায়। আজই অধ্যাপক ডা. মুসা সিদ্দিকের শরণাপন্ন হোন।


MS

লিখেছেন Prof. Dr. Musa Siddik

এফসিপিএস (ওএমএস) · অধ্যক্ষ, রংপুর কমিউনিটি ডেন্টাল কলেজ

এই আর্টিকেলটি শেয়ার করুন আপনার প্রিয়জনের সাথে: